হাওজা নিউজ এজেন্সি: আলী লারিজানি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতির গোপন দিকগুলো স্পষ্ট করেছে।
সচিব আরও উল্লেখ করেছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ধ্বংসাত্মক উপাদানগুলোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে সক্ষম।
তিনি সতর্ক করেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়া আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং তাদের স্বার্থের ক্ষতি ঘটাবে। আমেরিকান জনগণও বুঝুক, এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপের সূচনা করেছেন ট্রাম্প নিজেই।”
একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড” অবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি চালায় এবং হত্যা করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে।”
গত এক সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিদেশভিত্তিক শত্রু গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং জনবিক্ষোভের আড়ালে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
তেহরান বারবার আইনসম্মত নাগরিক প্রতিবাদ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছে এবং সতর্ক করেছে যে বিদেশি শক্তি প্রায়ই সামাজিক অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য অত্যন্ত ভণ্ডামিপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশেই বিক্ষোভ দমন করে আসছে, অথচ বিদেশে মানবাধিকারের রক্ষাকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
আপনার কমেন্ট